বর্তমান সময় ও শিশুদের হাতে মোবাইল-ইন্টারনেট

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট একটি নিত্য ব্যবহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আলোকিত স্ক্রিণ আর ঘুমাতে যাবার আগে সেই একই জিনিস। আমাদের এই অভ্যাস দেখে দেখে শিশুরাও আয়ত্ব করছে। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এখন শিশুরা সারাক্ষণই আছে মোবাইল স্ক্রিনের সামনে। বাবা মায়ের মোবাইল নিয়ে বসে পড়ে গেমস নয়তো ভিডিও’র রাজ্যে। তারা সেখানে কী দেখছে আর কী করছে, এর কিন্তু হিসেব রাখা বড়ই কঠিন। আগের দিনে একটি শিশু কী করে সময় কাটাতো? সে হয়ত খেলত বন্ধুদের সাথে, ছবি আঁকত, গান শিখত, মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলত, কেউ ডাক টিকিট জমাতো ইত্যাদি ইত্যাদি।
শিশুরা অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে-
১। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে
২। সামাজিকতার অদক্ষ চর্চা
৩। ঘুমের সমস্যা
৪। আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব
এসব সমস্যার সমাধানে বাবা মায়েদের করণীয়-
শিশুকে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে বাঁচাতে বাবা-মায়েরা মৌলিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরী। মনে রাখবেন, আপনার শিশু যত বেশী আসক্ত হয়ে পড়বে তত তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। ঘরে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন, একটা নিদৃষ্ঠ সময় বেঁধে প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস করুন। পরিবারের প্রত্যেকে ওই সময় কম্পিউটার, মোবাইল বা অন্য যে কোন ইলেক্ট্রনিক পণ্য ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। এসময়টা বরাদ্দ করুন বই পড়া, ছবি আঁকা, খেলাধুলা করা বা এমন কোন কাজের জন্য যা তাঁর মেধার বিকাশে সহায়ক হয়, এই অভ্যাস নিজে মেনে চলুন, সন্তানদেরও উৎসাহিত করুন। একটা গাইড লাইন তৈরি করুন, কতক্ষণ পড়াশোনা, কতক্ষণ গেমস খেলা, কতক্ষণ ইন্টারনেটের ব্যবহার , সম্ভব হলে আলাদা একটা জায়গা তৈরি করুন যেখানে আপনার কম্পিউটার থাকবে। যেখানে কম্পিউটার থাকলে আপনি এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সহজেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.