এ্যাসাইনমেন্ট লেখার সহজ উপায়

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। এমতাবস্তায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্লাস পরিচালনা করে আসছে।

শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বাসায় বসে শিক্ষার্থীদেরকে এ্যাসাইনমেন্ট এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণীতে প্রমোশন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ‌

সেই লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ দিনের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করেছেন।

পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে শিক্ষার্থীদেরকে এ্যাসাইনমেন্ট করতে দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী তারা কাজ সম্পন্ন করে শিক্ষকদের কাছে জমা দিবেন। কিন্তু এ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কে অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ অবগত নয়। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের আয়োজন কিভাবে একটি সুন্দর এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা যায়।

আসুন জেনে নেই এ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলি:

শুরু করতে হবে যেভাবেঃ

সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বিষয়ের উপর এ্যাসাইনমেন্ট করতে দিবেন।

এ্যাসাইনমেন্ট বিষয় পাওয়ার পরই শিক্ষার্থীকে লেখার কাজে হাত দিতে হবে। তার আগে অবশ্যই বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

এ্যাসাইনমেন্ট জন্য তথ্যের উৎস:

সাধারণত শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের তাদের পাঠ্য বই থেকে এ্যাসাইনমেন্ট করার কাজ দিবেন, যা শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায় বা টপিক পড়লে সহজেই করে নিতে পারবে।

তাছাড়াও এ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য নিন্মোক্ত তথ্য উৎস ব্যবহার করা যেতে পারেঃ

১। শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত বই

২। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহায়ক বই

৩। পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী, জার্নাল

৪। সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকের গাইড লাইন এবং সংসদ টিভির ক্লাস লেকচার।

লেখা শুরুর আগে যা জানতে হবেঃ

প্রথমেই জানা উচিত এ্যাসাইনমেন্ট অনেকটা গবেষণাপত্রের মত। আর এই সংগৃহীত তথ্য এবং বাস্তবতা মিলিয়ে এ্যাসাইনমেন্ট লিখতে হবে।

তাই এখানে এ্যাসাইনমেন্ট লিখতে নিম্নোক্ত বিষ্যগুলো খেয়াল রাখতে হবে। যেমনঃ ভূমিকা, বর্ণনা বা মূল অংশ,ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, সমাধান, উদাহরণ, সুপারিশ, উপসংহার ইত্যাদি।

এ্যাসাইনমেন্ট এর শিরোনাম যেমন হবেঃ

১। বিষয়ের নামঃ

২। শিক্ষার্থীর নামঃ

৩। শিক্ষকের নামঃ

৪। কোর্সের নামঃ

৫। প্রতিষ্ঠানের নামঃ

৬। লেখা জমা দেয়ার তারিখঃ

এ্যাসাইনমেন্ট তৈরির জন্য যা যা মনে রাখতে হবেঃ

১। A4 সাইজের কাগজের খাতা (প্রতি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা খাতা একই রকম হতে হবে)।

২। খাতার কভার পৃষ্ঠায় বিদ্যালয়ের নাম, নিজের নাম, শ্রেণি, শাখা, রোল নম্বর, বিষয়, তারিখ সাইন কলম দিয়ে সুন্দর করে লিখতে হবে।

৩। খাতায় কোন ভাবে লাল কালির কলম ব্যবহার করা যাবে না, প্রয়োজনে নীল কালি ব্যবহার করা যেতে পারে।

 ৪। হাতের লেখা সুন্দর ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে,কোনো প্রকার ঘষামাজা করা যাবে না।

 ৫। নিজের অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে এসাইন্টমেন্ট তৈরি করতে হবে, অন্যের কাছ থেকে দেখে এসাইন্টমেন্ট তৈরি করা যাবে না।

৬। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে বিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে।

এছাড়াও এ্যাসাইনমেন্ট  তৈরির ক্ষেত্রে আরও বিকল্প কিছু ব্যবহার করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »