কালোজিরার গুণাবলী

বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময় করতে পারে কালোজিরার বীজ ও তেল। এতে থাকা থাইমোকুইনন, নাইজেলেডিন ও আলফা-হেডেরিন নামের বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগগুলোর ঔষধি গুণ রয়েছে অনেক।
কালোজিরাতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অস্বস্তি দূর করতে পারে এটি। আবার কালোজিরার তেল ইনহেলেশন অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও কাজে দেয়।
কালোজিরাতে অ্যান্টি-অ্যাজমাটিক উপাদান রয়েছে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও এটি উপকারী।
এতে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ থাইমোকুইনন ব্যাকটিরিয়া, ফাঙ্গাস, প্যারাসাইট ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর।
কালোজিরা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো নানা রোগের নেপথ্যের কারণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। এই স্ট্রেস দূর করতে সাহায্য করে কালোজিরা।
কালোজিরা খেলে প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বাড়ে।

কীভাবে খাবেন
কালোজিরা ভর্তা হিসেবে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। রান্নায় ফোড়ন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া গুঁড়া করে কুসুম গরম পানিতে মিশিয়েও খেতে পারেন। মধু ও লেবুর রস মেশাতে পারেন এতে।

কালোজিরা খাবারে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করলেও এর আছে নানা ঔষধি গুণ। কালোজিরে শুধু ক্ষিধে বাড়ায় না, পেটের বায়ুনাশক ও ফুসফুসের রোগেও মহাউপকারী। কাশি, আমাশা নিরাময়, মাথার যন্ত্রণা থেকে শুরু করে জন্ডিসেও কালোজিরার মহাগুণ রয়েছে। চলুন জেনে নেই কালোজিরার গুণাবলী সম্পর্কে।

বুদ্ধির বিকাশে

কালো জিরা বুদ্ধি ক্ষমতা বাড়াতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে এন্টি অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক।

মাথায় যন্ত্রণা

কাঁচা সর্দি থেকে মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে কালোজিরা কাপড়ে পুঁটলি করে বেঁধে শুকোতে হবে। হাতে রগড়ে নিয়ে সেই গন্ধটা শুকলে উপকার পাওয়া যায়।

চুলকানি

কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়। এতে ১০০ গ্রাম সরষের তেলে ২৫-৩০ গ্রাম কালোজিরা ভেজে সে তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করতে হয়।

গলা ফোলা

সর্দি-কাসির জন্য গ্লান্ড ফুলেছে, সে ক্ষেত্রে কালোজিরা ও চাল পোড়া সমান পরিমাণে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে এক দিনের মধ্যে ফোলা ও ব্যাথা উভয়ই উপশম হয়।

দাঁতের ব্যথা

গরম জলে কালোজিরা নিয়ে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।

চুল পড়া

কালোজিরা বেটে নিয়ে মাথায় নিয়মিত মালিশ করলে চুল পড়া কমে ও নতুন চুল গজায়। ত্বকের শুষ্কতা – ঘিয়ের সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় ও রং ফর্সা হয়।

কৃমি

ভিনেগারে ভিজিয়ে কালোজিরা খেলে কৃমি নষ্ট হয়। স্মৃতিভ্রংশ – স্মৃতিভ্রংশ ও স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালোজিরা খুব কার্যকর। ৩ গ্রাম কালোজিরা ২০ মিলিলিটার মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এ রোগ সারে। জন্ডিস, প্লীহাবৃদ্ধি – কালোজিরা বেটে খেলে এ সব রোগ সারে।

কোথাও কেটে গেলে

কালোজিরা দেহের কোথাও কেটে গেলে তা ঝটপট শুকাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন অল্প করে কালিজিরা ভাত-রুটির সঙ্গে বা কাঁচা খেতে পারেন। এত ক্ষুধাভাব ও বৃদ্ধি পায়।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায়

যাদের পেটে গ্যাসের সমস্যা আছে তারা কালোজিরা খেতে পারেন। এটি পেটের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে আর তার পাশাপাশি ক্ষুধাভাব বাড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *